Header Ads

Header ADS

কম আয়ে সঞ্চয়ের ৮ টি প্রমাণিত কৌশল যা আপনাকে সাহায্য করবে

 

কম আয়ের মানুষের জন্য সঞ্চয় করা খুব কষ্ট সাধ্য । কিন্তু কিছু কৌশল অবলম্বন করে খুব সহজে সঞ্চয় করা সম্ভব । আজকে এমন কিছু নিনজা টেকনিক শেয়ার করব।

কম আয়ে সঞ্চয়ের উপায় (Kom aye sanchoyer upay)


১) বাজেটঃ

সঞ্চয়ের জন্য প্রথমে বাজেট নির্ধারন করতে হবে। কোন খাতে খরচ হয় সেটি বের করতে হবে । খরচ কে আমরা ২ টি ভাগে ভাগ করতে পারি।  যে খরচগুলি না করলে আমরা চলতে পারব না সেগুলি কে ১ম ভাগে রাখতে হবে। যেমন ঃ- বাড়ী ভাড়া ,প্রয়োজনীয়  খাবার, বিদ্যুত বিল, গ্যাস বিল ইত্য্যদি। যে খরচগুলি ছাড়া আমরা চলতে পারব সেগুলি কে আমরা অন্য ভাগে ফেলতে পারি। যেমনঃ রেস্টোরেন্টে যাওয়া, ইন্টারনেট বিল, অতিরিক্ত জামা কাপড় ক্রয় করা, ইত্যাদি। এইভাবে প্রতিটি খরচ কে মনিটরিং করতে হবে ।

 ২)মিতব্যয়ী হওয়াঃ

আমাদের চিহ্নিত করতে হবে  কোন জায়গায় আমরা খরচ কমাতে পারি এবং কোন জায়গায় সেইভ করতে পারি ! আমার কি নেটফ্লিক্স সাবস্ক্রিপশন আছে? আমি কি সব সময় বাহিরে খাবার খাই? আমি কি অতিরিক্ত বিদ্যুত ব্যবহার করি? – এইসব বন্ধ করে আমাদের খরচ কমাতে হবে । যাতায়াতের সময় আমরা পাবলিক বাস  ব্যবহার করতে পারি। রেস্টোরেন্টে না গিয়ে ঘরে রান্না করতে পারি।

 ৩) ফান্ড করাঃ-

আপনার ইনকাম যতই কম হোক না কেন কিছু না কিছু সঞ্চয় করুন । কারন আপনার সঞ্চয় বিপদের দিনের বন্ধু। যেকোন মুহুর্তে আপনার চাকরি চলে যেতে পারে, অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। আপনার যদি সঞ্চয় থাকে বিপদের সময় কারো কাছে হাত পাততে হবে না । সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে ১/৩ বাজেটিং রুল ফলো করতে পারেন। অর্থাৎ আয়ের ৩ ভাগের ১ ভাগ সঞ্চয় করা। যেমনঃ আপনার আয় যদি ১০০ টাকা হয় তবে আপনি ৩৩ টাকা সঞ্চয় করতে পারেন।

৪) অটো সেভিংঃ

বর্তমানে প্রায় সব ব্যাংকে অটো সেভিং স্কিম ফিচার আছে। অর্থাৎ আপনার সেলারির একাউন্ট থেকে নির্দিষ্ট অংশ প্রতি মাসে মাসে ব্যাংকে অন্য একাউন্টে জমা করবেন । নির্দিষ্ট সময়ের পর একটা নির্দিষ্ট পার্সেন্টিজ প্রফিট হিসেবে প্রদান করবে। যেমনঃ ডিপিএস, এফ ডি আর ইত্যাদি।

 ৫) ডিজিটাল পেমেন্ট ঃ

বিভিন্ন সার্ভিস , গ্রোচারি আইটেম , বিদ্যুত বিল, মোবাইল রিচার্জ , গ্যাস বিলের ক্ষেত্রে মোবাইল পেমেন্ট ব্যবহার করা যেতে। কারণ নগদ , বিকাশের মত বিভিন্ন মোবাইল এপস বিদ্যুৎ বিল , গ্যাস বিল, মোবাইল রিচার্জ ইত্যাদি সার্ভিসের উপর ক্যাশব্যাক অফার, ডিস্কাউন্ট অফার করে থাকে । এতে আপনার জন্য কিছুটা হলেও অর্থ সাশ্রয় হবে।

৬)পাবলিক সার্ভিসঃ

যতটুকু সম্ভব প্রাইভেট সার্ভিস পরিহার করে পাবলিক সার্ভিস গ্রহণ করা উচিত। কারন আমাদের দেশে পাবলিক পরিসেবা অনেক সাশ্রয়ী। যেমনঃ- প্রাইভেট গাড়ী, রিকশা সি এন জির পরিবর্তে বাস ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রাইভেট স্কুল কলেজ কিংবা মেডিকেলের পরিবর্তে সরকারী স্কুল কলেজ কিংবা হাসপাতাল ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭) বাল্কে ক্রয় করাঃ

চাল, ডাল, তেল ইত্যদি খুচরা বাজার থেকে না কেনে পাইকারি বাজার থেকে কেনা উচিত । এতে অনেক টাকা সাশ্রয়ী হয় ।  একসাথে অনেক পণ্য কিনলে দোকানদাররা বিভিন্ন প্রকার ডিস্কাউন্ট প্রদান করে থাকে ।

৮)অতিরিক্ত আয়ঃ

চাকরির পাশাপাশি সাইড বিজনেসের চেষ্টা করতে হবে। বর্তমানে টেকনোলজির দুনিয়ায় সাইড বিজনেস খুব সহজ হয়ে গেছে । ফেসবুকে পেইজ খুলে বিভিন্ন পণ্য সেল করা যায়। এইছাড়া বিভিন্ন বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করে অনলাইনে আয় করা যায়। যেমনঃ- ওয়েব ডেভলপমেন্ট, এস ই ও , কন্টেন্ট রাইটিং শিখেও অনেক টাকা  ইনকাম করা সম্ভব ।

পরিশেষে বলা যায় যে, বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রেও স্বল্প আয় করে সঞ্চয় করা সম্ভব। এর জন্য থাকতে হবে দৃঢ় ইচ্ছা ও মনোবল। ধনি হওয়ার জন্য সঞ্চয়ের কোন বিকল্প নেই।


No comments

Theme images by Petrovich9. Powered by Blogger.